জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৫: অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য আয়োজিত আসন্ন ‘জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৫’ সুষ্ঠু ও নকলমুক্ত পরিবেশে আয়োজনের লক্ষ্যে কঠোর অবস্থান নিয়েছে শিক্ষা বোর্ড। পরীক্ষা গ্রহণ, প্রশ্নপত্রের নিরাপত্তা, আসন বিন্যাস এবং কেন্দ্রসচিবদের দায়িত্ব নিয়ে ১৮ দফার একগুচ্ছ জরুরি নির্দেশনা জারি করেছে আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি।
গত রোববার (১৪ ডিসেম্বর ২০২৫) ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক চিঠির মাধ্যমে এই নির্দেশনাগুলো দেশের সব কেন্দ্রসচিবদের কাছে পাঠানো হয়েছে। নির্দেশনায় প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে ট্রেজারি থেকে কেন্দ্রে প্রশ্ন নেওয়া এবং খাম খোলার ক্ষেত্রে প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে।
আমাদের শিক্ষা ডেস্ক থেকে আজকের প্রতিবেদনে পরীক্ষার মানবণ্টন, সময়সূচি এবং নতুন নির্দেশনার বিস্তারিত তুলে ধরা হলো।
পরীক্ষার মানবণ্টন ও সময়সূচি
বোর্ডের নির্দেশনায় জানানো হয়েছে, অষ্টম শ্রেণির পূর্ণাঙ্গ পাঠ্যসূচি অনুযায়ী এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। পরীক্ষা শুরু হবে প্রতিদিন সকাল ১০টায়।
-
পূর্ণমান ১০০ ও সময় ৩ ঘণ্টা: বাংলা, ইংরেজি এবং গণিত বিষয়ের পরীক্ষা ১০০ নম্বরে অনুষ্ঠিত হবে। সময় বরাদ্দ থাকবে ৩ ঘণ্টা।
-
পূর্ণমান ৫০+৫০ ও সময় ১.৩০+১.৩০ ঘণ্টা: বিজ্ঞান এবং বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বিষয়ের পরীক্ষা হবে যথাক্রমে ৫০ নম্বরে। প্রতিটি অংশের জন্য ১ ঘণ্টা ৩০ মিনিট করে সময় পাবেন পরীক্ষার্থীরা।
প্রশ্নপত্র সুরক্ষা ও কেন্দ্রসচিবদের করণীয়
প্রশ্নপত্রের গোপনীয়তা রক্ষা এবং পরীক্ষা কেন্দ্রে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কেন্দ্রসচিবদের জন্য কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
১. প্রশ্নপত্র যাচাই: পরীক্ষা শুরুর সাত দিন আগে ট্রেজারি বা থানার লকারে রক্ষিত প্রশ্নপত্রের প্যাকেট যাচাই করতে হবে। এ সময় নির্বাহী কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক। ২. নিরাপত্তা খাম: প্রশ্নপত্রের ২ সেট পরীক্ষার তারিখ অনুযায়ী আলাদা করে নিরাপত্তা খামে মুড়িয়ে সিলগালা করতে হবে। খামের ওপর তারিখ, বিষয় কোড ও সেট কোড স্পষ্ট করে লিখতে হবে। ৩. এসএমএস নির্দেশনা: পরীক্ষার দিন ট্রেজারি থেকে প্রশ্নপত্র কেন্দ্রে আনার পর বোর্ডের পাঠানো এসএমএস (SMS) পাওয়ার পরেই কেবল প্রশ্নপত্রের প্যাকেট খোলা যাবে। নির্দেশিত সেটের বাইরে অন্য কোনো সেট ব্যবহার করা যাবে না। ৪. ডিভাইস নিষেধাজ্ঞা: কেন্দ্রসচিব ছাড়া অন্য কেউ পরীক্ষা কেন্দ্রে মোবাইল ফোন বা ইলেকট্রনিক ডিভাইস নিয়ে প্রবেশ করতে পারবেন না। কেন্দ্রসচিবও শুধুমাত্র ছবি তোলা যায় না—এমন সাধারণ বাটন ফোন ব্যবহার করতে পারবেন।
আসন বিন্যাস ও পরীক্ষার্থীদের নিয়মাবলি
পরীক্ষা কেন্দ্রে স্বাস্থ্যবিধি এবং সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিতে নিচের নিয়মগুলো মানতে হবে:
-
আসন দূরত্ব: প্রতি পরীক্ষার্থীর মধ্যে কমপক্ষে ৩ ফুট দূরত্ব বজায় রেখে আসন বিন্যাস করতে হবে।
-
কক্ষ পরিদর্শক: প্রতি ২০ জন পরীক্ষার্থীর জন্য ১ জন কক্ষ পরিদর্শক থাকবেন। তবে প্রতিটি কক্ষে ন্যূনতম ২ জন পরিদর্শক রাখা বাধ্যতামূলক।
-
প্রবেশ সময়: পরীক্ষা শুরুর ৩০ মিনিট আগে শিক্ষার্থীদের কেন্দ্রে প্রবেশ করতে হবে। এর পরে কেউ আসলে রেজিস্ট্রারে কারণ উল্লেখ করে বিশেষ বিবেচনায় প্রবেশের অনুমতি দেওয়া যেতে পারে।
প্রবেশপত্র বিতরণ ও সংশোধন
প্রতিষ্ঠান প্রধানদের নিজ নিজ বোর্ডের ওয়েবসাইট থেকে প্রবেশপত্র ডাউনলোড করে আগামী ২১ ডিসেম্বরের মধ্যে পরীক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছানো নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। যদি প্রবেশপত্রে কোনো ভুল থাকে, তবে তা হাতে পাওয়ার ৫ কর্মদিবসের মধ্যে বোর্ডের সংশ্লিষ্ট শাখা থেকে সংশোধন করে নিতে হবে।
অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা
-
পরীক্ষা চলাকালীন সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের ক্লাস কার্যক্রম বন্ধ রাখতে হবে।
-
বোর্ড অনুমোদিত সায়েন্টিফিক বা সাধারণ ক্যালকুলেটর ছাড়া অন্য কোনো ডিভাইস ব্যবহার করা যাবে না।
-
পরীক্ষা কেন্দ্রের বাইরে অভিভাবকদের ভিড় বা বিশৃঙ্খলা এড়াতে হ্যান্ডমাইক ব্যবহার এবং প্রয়োজনে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বোর্ডের এই নির্দেশনা অমান্য করলে বা দায়িত্বে অবহেলা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রসচিব ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্ক করা হয়েছে।



